বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) স্ট্যান্ডিং কমিটির আম্পায়ার্স ডিপার্টমেন্টের সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবি কাউন্সিলর ও সাবেক ক্রিকেটার আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিন। ক্রিকেটের মাঠ থেকে এবার দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর পরিচিতি ও কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিন খেলোয়াড় হিসেবে যেমন মাঠ মাতিয়েছেন, তেমনি পরবর্তীতে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও কাজ করে আসছেন।
একসময় ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত ছিলেন এই গতিময় পেস বোলার। ২০০৪ সালে দেশের বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণফোন পেসার হান্ট’ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর ক্রিকেটীয় যাত্রার সূচনা হয়। প্রতিভাবান পেসার হিসেবে সে সময় ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়েন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনের পর ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে নিজেকে একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিন। দেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি।
এভিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও বিস্তৃত। ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে তিনি সামাজিক সংগঠন ‘মানবিক যাত্রা ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিনের পারিবারিক পরিচিতিও ঐতিহ্যবাহী। তাঁর পৈতৃক নিবাস লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়ী ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের কাকিনা জমিদারি এস্টেটের অধীনস্থ জোতদার বলে মাবুদ সরকারের প্রপৌত্র, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মরহুম আহমদ আলী প্রেসিডেন্টের নাতি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলহাজ্ব মো. এরশাদ আলমের সন্তান।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিন বলেন, দেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনের সামগ্রিক উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন তিনি। বিশেষ করে দেশের খেলাধুলার মান আরও উন্নত করা, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় প্রতিভাগুলোকে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিসিবির আম্পায়ার্স ডিপার্টমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পাওয়াকে নিজের জন্য বড় সুযোগ ও দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ এভিন। ক্রিকেটের মাঠে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তাঁর।
নতুন দায়িত্বে সফলভাবে কাজ করার জন্য তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।