রফিকুল ইসলাম খান:
ঢাকার রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় অবস্থিত আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের ভূমি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ওই ভূমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ড্যাফোডিল মান্নানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ওয়াকফ স্টেটের সদস্যরা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ ভূমিতে কোনো ধরনের নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওয়াকফ স্টেটের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দপত্র বা আবেদনকে ভিত্তি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ ওই ভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় কিছু কথিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগকারীরা আরও বলেন, নির্মাণকাজের সময় সেখানে কিছু ব্যক্তিকে পাহারার দায়িত্বে রাখা হয় এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয় না বলেও তারা জানতে পেরেছেন। গত ২২ জুলাই ২০২৬ ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তাদের দাবি।
আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের সদস্যদের বক্তব্য, বিচারাধীন সম্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ পরিচালিত হলে তা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তারা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।এদিকে, ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক সুমন তানভীর-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, আদালতের নথিপত্র ও প্রকৃত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে তারা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান এবং প্রয়োজনে মানহানির মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে ড্যাফোডিল মান্নান, সুমন তানভীর বা ৭১ টেলিভিশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।এলাকাবাসীর মতে, বিচারাধীন ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, নথিপত্র ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যেন কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
প্রকাশক: মো: রফিকুল ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬।
মোবাইল : ০১৭১৫-৬৬৯৮১৪ ।
Copyright @2026Mirpurpost